সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান বাংলাদেশের
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
২৩-০৫-২০২৬ ০৫:৫০:৫০ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২৩-০৫-২০২৬ ০৫:৫০:৫০ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
দেশের সমুদ্রসীমায় তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলোর (আইওসি) অংশগ্রহণ বাড়াতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে অফশোর বিডিং রাউন্ড-২০২৬ ঘোষণা করেছে পেট্রোবাংলা। এই রাউন্ডে মোট ২৬টি সমুদ্র ব্লকে অনুসন্ধানের সুযোগ রাখা হয়েছে, যার মধ্যে ১১টি অগভীর সমুদ্র অঞ্চল এবং ১৫টি গভীর সমুদ্র অঞ্চল।
শনিবার (২৩ মে) দুপুরে পেট্রোবাংলার পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সফল দরদাতাদের সঙ্গে বাংলাদেশ অফশোর মডেল প্রোডাকশন শেয়ারিং চুক্তি (এমপিএসসি) ২০২৬ অনুযায়ী চুক্তি সম্পাদন করা হবে। এককভাবে অথবা যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানগুলো একাধিক ব্লকের জন্যও দরপত্র দিতে পারবে।
বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য নতুন চুক্তিতে বেশ কিছু সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অর্জিত মুনাফা সম্পূর্ণভাবে বিদেশে স্থানান্তরের সুযোগ, কোনো সিগনেচার বোনাস বা রয়্যালটি না থাকা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দামের সঙ্গে সমন্বয় করে গ্যাসের মূল্য নির্ধারণের ব্যবস্থা। পাশাপাশি যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্ক ছাড় এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের করের দায় পেট্রোবাংলা বহন করার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
চুক্তি কাঠামোতে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত কস্ট রিকভারি সুবিধা রাখা হয়েছে, যদিও এর বার্ষিক সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত। বাধ্যতামূলক কাজ হিসেবে শুধু দ্বিমাত্রিক সিসমিক জরিপ করতে হবে, তবে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান চাইলে অতিরিক্ত কর্মপরিকল্পনাও জমা দিতে পারবে।
যোগ্যতার শর্ত অনুযায়ী, অগভীর সমুদ্র ব্লকের জন্য দরদাতা প্রতিষ্ঠানের অন্তত একটি অফশোর প্রকল্পে প্রতিদিন কমপক্ষে ৫ হাজার ব্যারেল তেল বা ৭৫ মিলিয়ন স্ট্যান্ডার্ড ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। গভীর সমুদ্র ব্লকের ক্ষেত্রে এই সক্ষমতা আরও বেশি-প্রতিদিন অন্তত ১০ হাজার ব্যারেল তেল বা ১০০ মিলিয়ন স্ট্যান্ডার্ড ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের অভিজ্ঞতা আবশ্যক। এছাড়া দেশের বাইরে অন্তত একটি স্থানে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনের বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, আগ্রহী কোম্পানিগুলোর জন্য আগামী ১ জুন থেকে তথ্য প্যাকেজ বিক্রি শুরু হবে, যার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০০ মার্কিন ডলার। বিডিং ডকুমেন্ট ও প্রমোশনাল প্যাকেজ কিনতে হবে ৭ হাজার ডলারে, যা দরপত্রে অংশগ্রহণের জন্য বাধ্যতামূলক।
দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ নভেম্বর দুপুর ১টা পর্যন্ত। একই দিন দুপুর ২টায় পেট্রোবাংলার কার্যালয়ে দরপত্র খোলা হবে।
এছাড়া শ্যালো সি ব্লকে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাপেক্সের জন্য ১০ শতাংশ ক্যারিড ইন্টারেস্ট সংরক্ষণ থাকবে। পাশাপাশি পেট্রোবাংলার অগ্রাধিকার ক্রয়াধিকার বজায় থাকবে এবং শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাদের উত্তোলিত গ্যাস দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রি বা রপ্তানিও করতে পারবে।
বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচএইচ/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স